
অনলাইন ডেস্ক।। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয় নতুন এক ভয়ংকর অধ্যায়। ইরানের ভেতরে ঢুকে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম, সামরিক স্থাপনা এবং সবচেয়ে বড় কথা- ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের হত্যার পর তেল আবিব ও ওয়াশিংটনে যে সাময়িক উল্লাস দেখা গিয়েছিল, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তা এক দীর্ঘস্থায়ী ও দমবন্ধ করা দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগণ হয়তো ভেবেছিলেন, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের প্রতিরোধব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইরান এবং তাদের মিত্ররা ইসরায়েলের ওপর যে তীব্র এবং ভিন্নমাত্রার পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে, তা ইসরায়েলকে এমন এক বহুমুখী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা তাদের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আজকের ফিচারে আমরা বিশ্লেষণ করব, চলমান এই যুদ্ধে ইরানি মিসাইলের আঘাতে ইসরায়েলের ভৌত স্থাপনা, অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং সামাজিক জীবনে ঠিক কতটা এবং কী ধরনের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন শামস বিশ্বাস
আকাশ প্রতিরক্ষায় ফাটল
ইসরায়েল সব সময়ই তাদের ‘আয়রন ডোম’, ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ এর মতো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গর্ব করে এসেছে। কিন্তু ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এসে এই অহংকার বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কৌশলগতভাবে তাদের মিসাইল হামলার ধরনে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আন্তর্জাতিক সামরিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য মতে, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০ থেকে ৯০টি মিসাইল ফায়ার করেছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো- ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের ছোড়া মিসাইলগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই হলো ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছবোমাযুক্ত ওয়ারহেড।
প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা : একটি সাধারণ ব্যালিস্টিক মিসাইলকে আকাশে ধ্বংস করা আয়রন ডোমের জন্য যতটা সহজ, একটি ক্লাস্টার মিসাইলকে ঠেকানো ঠিক ততটাই কঠিন। কারণ, এই মিসাইলগুলো ইসরায়েলের আকাশে পৌঁছানোর আগেই অসংখ্য ছোট ছোট বোমায় বিভক্ত হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ইসরায়েলের রাডার সিস্টেম বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং ইন্টারসেপ্টরগুলো সব ছোট বোমা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
কৌশলগত পরিবর্তন : ইরান এখন একসঙ্গে অনেক মিসাইল না ছুড়ে, সারাদিন ধরে বিরতি দিয়ে দিয়ে অল্প কয়েকটি করে মিসাইল ছুড়ছে। এর মূল লক্ষ্য কোনো বিশাল সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা নয়, বরং ইসরায়েলের পুরো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বক্ষণ ব্যস্ত রাখা এবং শেষ পর্যন্ত তাদের প্রযুক্তিগত ও লজিস্টিক সক্ষমতাকে নিঃশেষ করে দেওয়া।
বড় স্থাপনা ও জনবসতিতে আঘাত
ইসরায়েলের সামরিক সেন্সরশিপের কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সব সময় গণমাধ্যমে আসে না। তবে স্যাটেলাইট ইমেজ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং ফাঁস হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটা স্পষ্ট যে, ইসরায়েলের অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলো এবার আর সুরক্ষিত নেই।
বেইত শেমেশ ট্র্যাজেডি : এই যুদ্ধের অন্যতম হৃদয়বিদারক এবং ইসরায়েলের জন্য বড় একটি ধাক্কা ছিল ১ মার্চের ঘটনা। জেরুজালেমের কাছে বেইত শেমেশ এলাকার একটি সিনাগগের (ইহুদি উপাসনালয়) শেল্টারে বা আশ্রয়কেন্দ্রে ইরানের একটি মিসাইল সরাসরি আঘাত হানে। অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই হামলায় অন্তত ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। এটি ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে এই ধারণার জন্ম দিয়েছে যে, তাদের কোনো বাংকারই আর শতভাগ নিরাপদ নয়।
দিমোনা পারমাণবিক স্থাপনা ও সংলগ্ন অঞ্চল : দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত দিমোনা ইসরায়েলের সবচেয়ে গোপনীয় ‘শিমন পেরেজ নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার’-এর জন্য পরিচিত। ২১-২২ মার্চের দিকে ইরানের ছোড়া মিসাইল দিমোনা শহর এবং পার্শ্ববর্তী আরাদ শহরে আঘাত হানে। যদিও পারমাণবিক চুল্লির সরাসরি কোনো ক্ষতি হয়নি বলে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, কিন্তু পারমাণবিক স্থাপনার এত কাছে মিসাইল এসে পড়ার বিষয়টি ইসরায়েলি ডিফেন্স এস্টাবলিশমেন্টের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। এই হামলায় আবাসিক ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ২০০ জন মানুষ আহত হয়েছেন।
তেল আবিব ও অর্থনৈতিক হাব : যুদ্ধের একদম শুরুতেই (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেল আবিবের একটি বহুতল ভবনে মিসাইল আঘাত হানে। এ ছাড়া মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইয়েহুদ এবং রামাত গান অঞ্চলে ক্লাস্টার বোমার সাব-মিউনিশন ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক হতাহত হন। এর ফলে ইসরায়েলের প্রধান বাণিজ্যিককেন্দ্রগুলোতে স্বাভাবিক কাজকর্ম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে।
অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে আঘাত
যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর, কিন্তু ইসরায়েলের মতো একটি দেশ, যা মূলত উচ্চ প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়।
প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিপুল ও আকাশছোঁয়া ব্যয় : একটি আয়রন ডোম ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং একটি ‘অ্যারো’ মিসাইলের দাম প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। সারাদিন ধরে ইরানের বিক্ষিপ্ত মিসাইল হামলা ঠেকাতে গিয়ে ইসরায়েলকে প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাতাসে ওড়াতে হচ্ছে। গত ১৯ মার্চ পেন্টাগনের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীরই এই যুদ্ধে খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইসরায়েলের নিজস্ব খরচের অঙ্কটা এর চেয়েও ভয়াবহ, যা তাদের জাতীয় বাজেটে এক বিশাল ঘাটতি তৈরি করেছে।
শ্রমবাজার ও ‘স্টার্ট-আপ নেশন’-এ স্থবিরতা : ইসরায়েলের আইডিএফ মূলত রিজার্ভ সেনাদের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ যুবক, যারা মূলত টেক-কোম্পানি, সফটওয়্যার ফার্ম বা কৃষিকাজে যুক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে ফ্রন্টলাইনে তলব করা হয়েছে। জনবলের এই মারাত্মক অভাবের কারণে ইসরায়েলের বিশ্বখ্যাত টেক-ইন্ডাস্ট্রিগুলো তাদের প্রজেক্ট ডেলিভারি দিতে পারছে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রবল অনিশ্চয়তার কারণে ইসরায়েল থেকে তাদের মূলধন সরিয়ে নিচ্ছেন।
বাণিজ্য পথ ও লজিস্টিকস মুখ থুবড়ে পড়া : ইরানের মিত্ররা, বিশেষ করে হুতিরা, লোহিত সাগরে যে অবরোধ তৈরি করেছিল, তা এই যুদ্ধে আরও তীব্র হয়েছে। ফলে ইসরায়েলের ইলাত বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলো কার্যত অচল। পণ্য আমদানিতে বাধা পড়ায় দেশের ভেতরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে।
সামরিক ও কৌশলগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন
ইসরায়েল সবসময় নিজেদের মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দুর্র্ধষ এবং ‘অজেয়’ সামরিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এসেছে। কিন্তু এই যুদ্ধ সেই মিথকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
বহুমুখী ফ্রন্টের চাপ : ইসরায়েল এখন শুধু ইরানের সঙ্গেই লড়ছে না; লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ, গাজা থেকে হামাস এবং অন্যান্য দিক থেকে প্রক্সি গ্রুপগুলোর সম্মিলিত আক্রমণ তাদের সামরিক বাহিনীকে চরম ক্লান্ত করে ফেলেছে। সম্প্রতি ইসরায়েলি থিংক-ট্যাংকগুলোর রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, আইডিএফ-এর ভেতরে জনবল এবং গোলাবারুদের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা প্রকাশ পাওয়া : ইসরায়েল একা যে এই যুদ্ধ সামাল দিতে পারছে না, তা এবার দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। পেন্টাগন এই যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট চেয়েছে। মার্কিনিদের অংশগ্রহণ ছাড়া ইসরায়েলের পক্ষে ইরানের এই বিপুল আক্রমণ ঠেকানো অসম্ভব- এই বাস্তবতা বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েলের নিজস্ব শক্তি প্রদর্শনের অহংকারকে ম্লান করে দিয়েছে।
সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়
অর্থনৈতিক বা সামরিক ক্ষতির চেয়েও ইসরায়েলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে ভয়ংকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদের সমাজের ভেতরকার মনস্তাত্ত্বিক ফাটল।
মানসিক ট্রমা ও ক্লান্তিকর জীবন : মার্চ মাসের শেষে এসে সাধারণ ইসরায়েলিরা আক্ষরিক অর্থেই ক্লান্ত। দিনে-রাতে যখন-তখন সাইরেন বাজছে। ৯২ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি যুদ্ধের শুরুতে এই অভিযানকে সমর্থন করলেও, এখন তাদের দিন কাটছে বাংকারে। ঘুমের অভাব, অনিশ্চয়তা এবং যেকোনো মুহূর্তে মাথার ওপর ক্লাস্টার বোমা পড়ার আতঙ্কে দেশজুড়ে পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার মহামারীর আকার ধারণ করেছে।
রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন : দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক (২৬ মার্চ, ২০২৬) এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েলি সমাজে বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ যারা আরব নাগরিক, তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এই যুদ্ধের তীব্র বিরোধী। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকার ইরানকে ধ্বংস করার যে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, বাস্তবের সঙ্গে তার মিল না থাকায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
প্রযুক্তি খাতে অশনিসংকেত
ইসরায়েলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো তাদের উচ্চ-প্রযুক্তি বা হাই-টেক শিল্প। বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল ‘স্টার্ট-আপ নেশন’ হিসেবে পরিচিত। তাদের মোট জিডিপির প্রায় ২০ শতাংশ এবং রপ্তানি আয়ের অর্ধেকের বেশি আসে এই প্রযুক্তি খাত থেকে। কিন্তু ২০২৬ সালের এই যুদ্ধ ইসরায়েলের হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রির হৃৎপিণ্ডে আঘাত হেনেছে।
মেধাপাচার ও ব্রেইন ড্রেন : ইসরায়েলের প্রযুক্তি খাতে কর্মরত তরুণদের একটি বড় অংশ সামরিক বাহিনীর সাইবার ও ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যুদ্ধের কারণে তাদের প্রায় সবাই এখন রিজার্ভ ডিউটিতে ফ্রন্টলাইনে বা সাইবার ডিফেন্সে ব্যস্ত। ফলে সিলিকন ওয়াদি (ইসরায়েলের সিলিকন ভ্যালি)-এর বড় বড় স্টার্ট-আপগুলো কার্যত জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার : যেকোনো স্টার্ট-আপের বেঁচে থাকার প্রধান শর্ত হলো নিরবচ্ছিন্ন বিনিয়োগ। কিন্তু মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ইনটেল, মাইক্রোসফট বা গুগলের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ইসরায়েলে তাদের নতুন প্রজেক্ট স্থগিত করতে শুরু করেছে। ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং ক্রমাগত মিসাইল হামলার শিকার হওয়া দেশে বিনিয়োগ করতে রাজি নন।
ভৌত অবকাঠামোর ক্ষতি : হার্জলিয়া এবং তেল আবিবের মতো হাই-টেক হাবগুলোতে ক্রমাগত সাইরেন এবং ক্লাস্টার বোমার সাব-মিউনিশন ছড়িয়ে পড়ার কারণে কর্মীদের অফিসে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম মডেলও কাজ করছে না, কারণ সাইবার হামলার কারণে ইন্টারনেট এবং কমিউনিকেশন সার্ভারগুলোতে বারবার বিঘ্ন ঘটছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় ধস
আধুনিক যেকোনো রাষ্ট্রের টিকে থাকার অন্যতম শর্ত হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। ইরান এবার খুব সুকৌশলে ইসরায়েলের এই দুর্বল জায়গাটিতেও চাপ সৃষ্টি করেছে।
গ্যাস ফিল্ড বন্ধের নির্দেশ : ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত ইসরায়েলের সুবিশাল ‘লেভিয়াথান’ এবং ‘তামার’ গ্যাস ফিল্ড তাদের জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ মেটায়। কিন্তু হিজবুল্লাহ এবং ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলার সরাসরি হুমকিতে থাকায়, ইসরায়েলি সরকার বাধ্য হয়ে এই গ্যাস ফিল্ডগুলোর কার্যক্রম আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে দেশের ভেতরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
পাওয়ার গ্রিডে হামলার ঝুঁকি : যদিও সরাসরি কোনো বড় পাওয়ার প্লান্ট ধ্বংস হয়নি, তবে মিসাইলের শ্রাপনেল এবং ক্লাস্টার বোমার আঘাতে বিভিন্ন স্থানে লোকাল পাওয়ার গ্রিড ও ট্রান্সমিশন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের শিল্প খাতকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
অবরুদ্ধ আকাশ ও সমুদ্রপথ
একটি দেশ যখন চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন তার সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০২৬ সালের এই যুদ্ধে ইসরায়েল কার্যত আকাশ ও সমুদ্রপথে অবরুদ্ধ একটি দ্বীপে পরিণত হয়েছে।
বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে স্থবিরতা : ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ন এখন আর আগের মতো কর্মচঞ্চল নেই। প্রায় সব বড় বিদেশি এয়ারলাইন্স ইসরায়েলে তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। আকাশসীমায় সামরিক বিমান এবং মিসাইল ইন্টারসেপ্টরগুলোর সার্বক্ষণিক উপস্থিতির কারণে বেসামরিক বিমান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে জরুরি কার্গো এবং ঔষধপত্র আনতেও ইসরায়েলকে বেগ পেতে হচ্ছে।
সমুদ্রবন্দরগুলোর অচলাবস্থা : লোহিত সাগরে হুথিদের হামলার কারণে আগেই ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইলাত বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। এবার ভূমধ্যসাগরে হাইফা এবং আশদোদ বন্দরের কাছাকাছি মিসাইল অ্যালার্মের কারণে বড় বড় মালবাহী জাহাজগুলো ইসরায়েলের বন্দরে ভিড়তে চাইছে না। বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানিগুলো তাদের রুট পরিবর্তন করায় ইসরায়েলে আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজারের ওপর।
স্বাস্থ্য খাতে নজিরবিহীন চাপ
যুদ্ধ শুধু অর্থনীতি বা স্থাপনার ক্ষতি করে না, মানুষের শরীর ও মনের ওপর যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়, তার রেশ থেকে যায় বহুকাল। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য খাত এখন এই বিপুল চাপের কাছে নতজানু।
হাসপাতালগুলোর ধারণক্ষমতা অতিক্রম : প্রতিদিনকার হামলায় আহত বেসামরিক নাগরিক এবং ফ্রন্টলাইন থেকে আসা আহত সেনাদের কারণে তেল আবিব, জেরুজালেম এবং হাইফার বড় বড় হাসপাতালগুলোতে তিলধারণের জায়গা নেই। আইসিইউ এবং ট্রমা সেন্টারগুলো ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী নিয়ে কাজ করছে।
চিকিৎসক ও নার্স সংকট : প্রযুক্তি খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতেরও অনেক চিকিৎসক এবং প্যারামেডিককে সামরিক বাহিনীর মেডিক্যাল ইউনিটে ড্রাফট করা হয়েছে। ফলে সাধারণ হাসপাতালগুলোতে জরুরি চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষের অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের বিপর্যয় : এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় অদৃশ্য ক্ষতি হলো সাধারণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য। ক্রমাগত সাইরেন, ক্লাস্টার বোমার আতঙ্ক এবং বাংকারের বদ্ধ জীবন- বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েলি মনস্তাত্ত্বিক সংগঠনগুলোর মতে, এই এক মাসে দেশে সাইকিয়াট্রিক হেল্পলাইনের কল রেট প্রায় ৪০০ শতাংশ বেড়েছে। এই ট্রমা বা মানসিক ক্ষত ইসরায়েলি সমাজকে আগামী কয়েক দশক ধরে বয়ে বেড়াতে হবে।
কৃষি খাত ও খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি
ইসরায়েলের কৃষি প্রযুক্তি বিশ্ববিখ্যাত। মরুভূমিতে কৃষিকাজ করে তারা তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু চলমান যুদ্ধ তাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সীমান্তবর্তী খামারগুলো পরিত্যক্ত : উত্তর ও দক্ষিণের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতেই ইসরায়েলের বড় বড় কৃষি খামার ও ফলের বাগান অবস্থিত। ক্রমাগত রকেট ও মিসাইল হামলার কারণে এই অঞ্চলগুলো থেকে সাধারণ নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ফসল কাটার বা রক্ষণাবেক্ষণের কেউ নেই। বিদেশি শ্রমিকের অভাব: ইসরায়েলের কৃষি খাত মূলত থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যুদ্ধের ভয়াবহতায় হাজার হাজার বিদেশি শ্রমিক দেশে ফিরে গেছেন। খেতের ফসল খেতেই নষ্ট হচ্ছে, যার কারণে দেশের ভেতরে তাজা শাকসবজি ও ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
ভূ-রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় ঢাল ছিল পশ্চিমা বিশ্বের অন্ধ সমর্থন এবং ‘ভিকটিম কার্ড’ বা নিজেদের একমাত্র আক্রান্ত রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের ক্ষমতা। কিন্তু ২০২৬ সালের এই যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের সেই নৈতিক ও কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নজিরবিহীনভাবে হ্রাস পেয়েছে। রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘গ্লোবাল আইসোলেশন’ বা একঘরে অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।
মিত্রদের মোহভঙ্গ, ইউরোপের দ্বিধা ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা : যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স বা জার্মানির মতো ইউরোপীয় মিত্ররা যুদ্ধের শুরুতে ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’-এর কথা বললেও, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং বেসামরিক প্রাণহানির কারণে তারা এখন সুর পাল্টেছে। ইউরোপের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষের নিয়মিত বিক্ষোভ এসব দেশের সরকারগুলোকে চরম অভ্যন্তরীণ চাপে ফেলেছে। ফলশ্রুতিতে স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মতো দেশগুলো ইসরায়েলের ওপর পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বা ‘আর্মস এমবার্গো’ আরোপের দাবি তুলেছে। এমনকি খোদ যুক্তরাজ্য সরকারও বাধ্য হয়ে ইসরায়েলের কাছে বেশ কিছু আক্রমণাত্মক অস্ত্র বিক্রিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন : ইসরায়েলের অস্তিত্বের প্রধান খুঁটি যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে খোদ মার্কিন সমাজেই ইসরায়েলকে সমর্থনের বিষয়ে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন ডেমোক্রেটিক এবং রিপাবলিকান পার্টির নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব ফেলছে। নতুন প্রজন্মের মার্কিন ভোটাররা ইসরায়েলকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার তীব্র বিরোধী। ফলে মার্কিন প্রশাসন বাধ্য হয়েই এখন ইসরায়েলের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর লাগাম টানার চেষ্টা করছে, যা দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক বিচারিক কাঠগড়ায় ইসরায়েল : বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ। হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ও তদন্ত এই যুদ্ধে নতুন মাত্রা পেয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইসরায়েল এখন প্রায় একঘরে। গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলো, বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার অনেক দেশ ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেছে।
আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এর মৃত্যুঘণ্টা ও আরববিশ্বের ক্ষোভ : ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য মনে করা হতো ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’কে, যার মাধ্যমে তারা আরববিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছিল। সৌদি আরবের সঙ্গেও চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু এই যুদ্ধের কারণে সেই স্বপ্ন পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। শুধু সৌদি আরবই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা বাহরাইনের মতো দেশগুলোও নিজেদের দেশের নাগরিকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চুক্তি আপাতত স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল এখন আক্ষরিক অর্থেই বন্ধুহীন।
সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বয়কট : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়াকে যেভাবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও একাডেমিয়া থেকে বয়কট করা হয়েছিল, ঠিক একই ধরনের নীরব বয়কটের শিকার হচ্ছে ইসরায়েল। পশ্চিমা বিশ্বের অনেক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণা বাতিল করেছে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ‘এথিক্যাল ইনভেস্টিং’-এর অজুহাতে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো থেকে মূলধন সরিয়ে নিচ্ছে।
সংক্ষেপে যা দাঁড়ায় : সামরিক শক্তিতে হয়তো ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে এখনো আধিপত্য ধরে রেখেছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তারা দ্রুত একটি ‘প্যারায়া স্টেট’ বা একঘরে রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এই নৈতিক ও কূটনৈতিক পতন ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি অস্তিত্বের জন্য মিসাইলের চেয়েও বড় হুমকি হতে পারে।
একটি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের ফাঁদ
আন্তর্জাতিক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই সংঘাত অতীতের যেকোনো আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ বা সংঘাতের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। ইসরায়েল ঐতিহাসিকভাবেই ‘সংক্ষিপ্ত এবং দ্রুতগতির’ যুদ্ধে পারদর্শী। তাদের মূল কৌশল হলো- দ্রুত এবং ভয়াবহ মাত্রায় আক্রমণ চালিয়ে শত্রুকে কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে পরাস্ত করা। কিন্তু ইরান ও তার মিত্ররা এবার ইসরায়েলকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘ওয়ার অব অ্যাট্রিশন’ বা ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের’ ফাঁদে ফেলেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে : লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মতো গবেষণা সংস্থাগুলোর বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইসরায়েল হয়তো যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া বিলিয়ন ডলারের সামরিক প্যাকেজ দিয়ে আরও কিছুদিন নিজেদের আকাশ সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু প্রতিদিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পেছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ওড়ানো এবং ক্লাস্টার বোমার আক্রমণ ঠেকানোর মতো লজিস্টিক সক্ষমতা দীর্ঘ মেয়াদে কোনো দেশের পক্ষেই ধরে রাখা সম্ভব নয়। এটি একটি অঙ্কের হিসাব, আর এই খরচের খেলায় ইসরায়েল প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছে।’
অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক মূল্যায়ন : অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদদের মতে, এই যুদ্ধ ইসরায়েলের ‘নিরাপদ বিনিয়োগের স্বর্গ’ হওয়ার ধারণাকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘তরুণ প্রযুক্তিবিদ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এমন কোনো দেশে তাদের ভবিষ্যৎ দেখতে চাইবেন না, যেখানে প্রতিদিন সাইরেনের শব্দে বাংকারে লুকিয়ে থাকতে হয়। এই চলমান ‘ব্রেইন ড্রেন’ বা মেধাপাচার এবং বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার ইসরায়েলের অর্থনীতিকে অন্তত এক বা দুই দশক পিছিয়ে দেবে।’