সাইদুল বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামের আবুল হোসেন খানের ছেলে। হামলায় তার বাবা-মাসহ আরও চার জন আহত হন। তারা বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন
গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) মধ্য রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে লাশ নিয়ে আসা হয় বাকেরগঞ্জের নিজ বাড়িতে।
নিহতের বাবা আবুল হোসেন বলেন, গত শনিবার সকালে প্রতিপক্ষ মিলন খান ১০ থেকে ১২ জন দেশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে লোচনাবাদ গ্রামে তাদের বসতবাড়ির জমি সংলগ্ন রেকর্ডিয় জমিতে দোকান ঘর উত্তোলনের শুরু করেন। কোন কাগজের বলে তিনি এ কাজ করছেন জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তপ্ত কথাবার্তা বলেন মিলন। এই সময় তাকে বারবার জানানো হয় এই জমি তাদের এবং কাগজপত্র রয়েছে। এ নিয়ে তার সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়ায় মিলন।
তিনি বলেন, এ সময় তার পরিবারের লোকজনও এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে মিলনের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় নিহত সাইদুলকে রক্তাক্ত করে মিলন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইদুলকে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ও পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল থেকে ঢাকা মেডিক্যালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাতে মারা যায়।
তিনি আরও বলেন, হামলায় তিনি (নিহতের বাবা), স্ত্রী পিয়ারা বেগম, স্বজন হাসান আলী খান ও আয়শা বেগম আহত হন।
এ ঘটনায় আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন বলেও জানান।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি খন্দকার কে এম সোহেল রানা জানিয়েছেন, জমি নিয়ে বিরোধে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই দুটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে নিহতের বাবা একটি মামলা করেন। মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেবে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।
