
অনলাইন ডেস্ক // হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় টিকা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে সরকার। আজ রোববার থেকে ঢাকাসহ চার সিটি এলাকায় শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১১ মে পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়। ঢাকা দক্ষিণে ৬ লাখ ৪৭ হাজার, উত্তর সিটিতে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮, ময়মনসিংহে ৬২ হাজার ও বরিশালে ৪৫ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে এ কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
আজ সকাল ৮টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধন অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ৫৪টি ওয়ার্ডে তিনটি করে টিকাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফারিয়া ফয়েজ জানান, হামের বিস্তার রোধে গত ৫ এপ্রিল প্রথম ধাপে ১৮ জেলার ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শনিবার বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল আয়োজিত এক সেমিনারে স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, গত চার বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশে টিকার ঘাটতি নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতি
হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে শনিবার সকাল ৮টার আগে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৮ জন। নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ জন। একই সময়ে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৮৫। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৪৮৯। সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৩ জন। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৪৫ জনের। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৯ জনে।