বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনায় জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ছাত্রীর মামা আবির হোসেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বর্তমানে শিশুটি জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সে শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুর এলাকার আনিসুর রহমানের মেয়ে। সে নারায়ণগঞ্জের রূপসী নিউ মডেল বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আফসানা আক্তারের মামা আবির হোসেন বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার ভাগ্নির পেটে ব্যথা অনুভব করে। কোনোভাবেই ব্যথা কমছিল না। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা থেকে জামালপুরে নিয়ে আসা হয়। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসককে দেখানো হলে তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান, কিডনিতে ময়লা জমতে পারে।’
পরে তাদের পরামর্শে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভর্তির পর চিকিৎসক বেশকিছু পরীক্ষা দেন।
সব পরীক্ষার প্রতিবেদন দেখে চিকিৎসক তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে বলে জানান। পরে মঙ্গলবার অপারেশন করানো হয়। এ সময় চিকিৎসক তার ব্যবস্থাপত্রে ছাত্রীর শরীরে রক্ত লাগবে এ ধরনের কোনো কথা বলেননি।
অপারেশনের পর একজন নার্স ছাত্রীকে রক্ত পুশ করতে আসেন। শিশুর মা রক্ত দিতে নিষেধ করেন। এ সময় নার্স তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং জোরপূর্বক শরীরে রক্ত প্রয়োগ করেন।
প্রায় আধা ঘণ্টা রক্ত শরীরে যাওয়ার পর দেখা যায় রক্তটি ভিন্ন গ্রুপের। শরীরে যে রক্ত পুশ করা হয়েছে সেটা ‘ও’ পজিটিভ। আর ছাত্রীর রক্তের গ্রুপ ‘এ’ নেগেটিভ। তা ছিল পাশের বিছানার সিজারের রোগীর রক্ত।
সেই রোগীর স্বামী তার স্ত্রীর রক্ত না পেয়ে দেখেন সেটা শিশুর শরীরে দেয়া হচ্ছে।
পরে ৩০ ভাগ দেয়ার পর শরীর রক্ত দেওয়া বন্ধ করা হয়। এ বিষয়ে নার্সদের মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনা না থাকায় তার মামা হাসপাতালে এসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপরেও দায়িত্বরত চিকিৎসক বা নার্সরা কেউই বিষয়টা নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি। পরে হাসপাতালের সহকারী পরিচালককে মোবাইল বিষয়টি জানানো হলে চিকিৎসককে ব্যবস্থা গ্রহণ ও আলাদা চিকিৎসার পাশাপাশি নজরদারির নির্দেশ দেন। বর্তমানে শিশুর শরীরে জ্বর ও বমি বমির লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুর মামা আবির হোসেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
শিশুর মা আন্জু আরা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ের অপারেশন করার পর চিকিৎসকরা তার শরীরে রক্তের কোনো কথাও বলেনি। ব্যবস্থাপত্রেও রক্তের উল্লেখ ছিল না। হঠাৎ করেই নার্স রক্ত নিয়ে এসে শরীরে দেয়া শুরু করেন। আমি রক্তের দরকার নেই বলাতে নার্স খারাপ আচরণ করে বলেন আমার চেয়ে বেশি বুঝেন। এ বলে আমার মেয়ের শরীরে রক্ত দেয়া শুরু করেন। ২০ থেকে ৩০ মিলিলিটার রক্ত শরীরে যাওয়ার পর নজরে পড়ে সেই রক্তটি ‘ও’ পজিটিভ। কিন্তু আমার মেয়ের তো রক্তের গ্রুপ ‘এ’ নেগেটিভ।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘শিশুটির অ্যাপেন্ডিসাইটিস নিয়ে অপারেশন করা হয়েছিল। তাকে পোস্ট অপারেটিভ রুমে রাখা হয়। ওখানকার দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্সরা ‘ও’ পজিটিভ রক্ত ভুলক্রমে তাকে দিয়ে দেয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দেয়ার জন্য বলা হয়। পাশাপাশি আনুষঙ্গিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। তবে কর্তব্য গাফিলতির জন্য যে সমস্যা হয়েছে এটা বড় ভুল। রক্তটা যদি বেশিক্ষণ চলতো তাহলে জীবননাশের আশঙ্কা থাকতো।’
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোশায়েল হোসেন সুমনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পাবার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’