
নিউজ ডেস্ক ।। বরিশালের মুলাদী উপজেলায় গ্রেপ্তার হওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে পুলিশের হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপুল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে রামারপুল বাজার এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের কর্মী রাসেদুল ইসলাম সেতু ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে মুলাদী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু লোক পুলিশকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে হ্যান্ডকাপ পরা অবস্থায় সেতুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ সাময়িকভাবে বিপাকে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে গভীর রাতে পুলিশের দেওয়া চাবি ব্যবহার করে হ্যান্ডকাপ খুলে সেটি পুলিশের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মুলাদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সরকারি কাজে বাধা প্রদান, আসামি ছিনিয়ে নেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খন্দকার সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পরপরই হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি ছিলেন রাসেদুল ইসলাম সেতু ভূঁইয়া। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, পলাতক রাসেদুল ইসলাম সেতু ভূঁইয়াসহ এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের দাবি, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।