৩০ বছরের পুরানো পথের পকেট গেটে দেয়াল নির্মাণ করায় গত ৮ মাস ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো। বিকল্প হিসেবে কাদা-পানি পেরিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। বাধ্য হয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান বাদল মাদারীপুর জেলায় একটানা ৩৭ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনে জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ‘সময়ের আলো’ পত্রিকার সাংবাদিক। তার ভাই মোসলেহ উদ্দিন পাপ্পু পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের যাতায়াতের একমাত্র পথ মাদারীপুর সরকারি কলেজের ভেতরে থাকা একটি পকেট গেট। কিন্তু ৮ মাস ধরে তা বন্ধ রয়েছে। বিকল্প হিসেবে কয়েকটি বাড়ির ভেতর দিয়ে কাদা-পানি পেরিয়ে যাতায়াত করছেন তারা। তাদের সঙ্গে আরও দুটি পরিবারও একইভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন না করায় এই বিপত্তি বাধে। পরে গত বছরের ৪ নভেম্বর কলেজের ভেতরে বাসার সামনে থাকা পকেট গেট ভেঙে ইট দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করে কর্তৃপক্ষ। এতে বন্ধ হয়ে যায় যাতায়াতের রাস্তা। সমাধানের কথা বললেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষমেশ মাদারীপুরের সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান খান ও উপাধ্যক্ষ লিটন মোল্লার নামে মামলা করেন তারা।
এদিকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত। আগামী ১৯ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। মাদারীপুর সরকারি কলেজের ভেতর দিয়ে জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য ৪টি পকেট গেট রয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি পকেট গেট বন্ধ করে দেয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান বাদল বলেন, ‘আমি অধ্যক্ষকে স্যার কেন বলিনি, তাই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আমার বাসার সামনে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ৮ মাস ধরে অমানবিক জীবনযাপন করছি। কিন্তু কোনো কূলকিনারা না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।’
আরেক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য সুফিয়া বেগম বলেন, ‘এভাবে কোনো পরিবার বেঁচে থাকতে পারে না। সারাদিন পানিবন্দি হয়ে থাকা লাগে। যাতায়াতের পথ না থাকায় ঘর থেকে বের হয়ে দৈনন্দিন কাজও করতে পারি না। আমাদের ওপর এমন অত্যাচারের বিচার চাই।’
মোসলেহ উদ্দিন পাপ্পু বলেন, ‘আমরা এখানে বসবাস করছি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে। এই পথ ব্যবহার করছি ৩০ বছর ধরে। কেউ কখনোই বাধা দেয়নি। কিন্তু হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এই ঘটনার বিচার চাই। পাশাপাশি যাতায়াতের পথটি আগের মতো সচল চাই।’
বাদীপক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম রাসেল বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি ২০ বছরের বেশি একটি পথ ব্যবহার করলে সেটিকে বন্ধ করার এখতিয়ার কারও নেই। আইনগতভাবে তারা সেটা পারেন না। সাংবাদিকের বাসার সামনের পকেট গেট বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে দায়ের করা মামলার সিদ্ধান্ত বিজ্ঞ আদালত দেবেন। আমরা ন্যায়বিচার পাব বলে আশা করছি। যদি বন্ধ করতেই হয়, তবে কলেজের সবগুলো পকেট গেট বন্ধ করে দিত কর্তৃপক্ষ। সেখানে একটি গেট বন্ধ করে দিয়ে আরও ৩টি গেট চালু রাখা প্রতিহিংসার প্রতিফলন বলেই মনে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে মাদারীপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ লিটন মোল্লা বলেন, ‘যেহেতু মামলা হয়েছে এবং মামলার নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, তাই বিষয়টি আমরা আইনিভাবেই মোকাবিলা করব।’
অন্যদিকে মাদারীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান খান বলেন, ‘সাংবাদিকের বাসার সামনে দেয়াল নির্মাণ করার অন্যতম কারণ হলো, সেখানে প্রতিনিয়ত মাদকের আড্ডা চলছিল। শিক্ষার্থীদের বাইরেও অন্য এলাকার বখাটেদের যাতায়াত ছিল বেশি। একজন মাদকসেবীর বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষ মামলাও করেছে। এরপর ছাত্রছাত্রীরা সেখানে দেয়াল নির্মাণ করতে আন্দোলন শুরু করে। পরে বাধ্য হয়ে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।’
তাহলে আরও তিনটি পকেট গেট কেন চালু রাখা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেগুলোও বন্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে।’