1. admin@bangladeshkontho.com : admin :
  2. gaziarifurrahaman46@gmail.com : Gazi Arif : Gazi Arif
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সারাদেশে জেলা-উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ পর্যায়ে প্রতিনিধি আবশ্যক।  যোগাযোগ :01719-480910
সংবাদ শিরোনাম :
নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হলেন মিরাজ হাসান প্রিন্স রাষ্ট্রীয় শোকের দিন বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে উড়েনি জাতীয় পতাকা কিছুটা বেড়েছে ফার্মের মুরগির দাম জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে রংপুরে কফিন মিছিল বন্যায় মানুষ কষ্ট করছে আর মন্ত্রীরা বিদেশ ভ্রমণ করছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ, বললেন—ফিজিকস পরীক্ষা আবারও নেওয়া হবে সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ বন্যা-পাহাড় ধস: সাত জেলায় প্রাণহানি ৫৪, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

হাত-পা বেঁধে  শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত , সালিশে ৫ হাজার টাকায় ‘মীমাংসা’

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ৫৪ ০ বার সংবাদটি পরেছে
  • শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তি না হওয়ায় ক্ষোভ

ইন্দুরকানি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।। পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার একটি হেফজ মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে বেত্রাঘাতের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সহপাঠীদের সঙ্গে ‘খারাপ আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তিন শিক্ষক মিলে শিশুটিকে একটি কক্ষে আটকে নির্মমভাবে মারধর করেন। তবে ঘটনার পর প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মাত্র ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী জুলহাস সরদার (১১) জিয়ানগর উপজেলার পত্তাশী গ্রামের মিরাজ সরদারের ছেলে। সে প্রায় দুই বছর ধরে পত্তাশী দারুল উলুম নেছার উদ্দিন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে অধ্যয়ন করছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ আগে সহপাঠীদের সঙ্গে কথিত ‘খারাপ আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে মাদ্রাসার একটি কক্ষে জুলহাসের হাত-পা বেঁধে বেত দিয়ে পেটানো হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার তিন শিক্ষক নাজিমা তালিম, সাকিব হোসেন ও ওসমান হোসেন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তার চাচা জামাল সরদারকে খবর দেওয়া হয়। পরে তিনি মাদ্রাসা থেকে জুলহাসকে বাড়িতে নিয়ে যান।

ঘটনার সাত দিন পর মঙ্গলবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আলী হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কবির হোসেন খান এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত তিন শিক্ষককে ওই বৈঠকে উপস্থিত করা হয়নি।

সালিশে শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী পরিবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

শিশুটির চাচা জামাল সরদার বলেন, “আমার ভাতিজার ওপর নির্যাতনের বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুধু ওষুধের খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর চাপে আমরা সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।”

সালিশকারীদের একজন এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আলী হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থী খারাপ কাজ করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার পর পরিচালনা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় শিশু অধিকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ