
ইন্দুরকানি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।। পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার একটি হেফজ মাদ্রাসায় ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে বেত্রাঘাতের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, সহপাঠীদের সঙ্গে ‘খারাপ আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে তিন শিক্ষক মিলে শিশুটিকে একটি কক্ষে আটকে নির্মমভাবে মারধর করেন। তবে ঘটনার পর প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয় সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মাত্র ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী জুলহাস সরদার (১১) জিয়ানগর উপজেলার পত্তাশী গ্রামের মিরাজ সরদারের ছেলে। সে প্রায় দুই বছর ধরে পত্তাশী দারুল উলুম নেছার উদ্দিন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে অধ্যয়ন করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ আগে সহপাঠীদের সঙ্গে কথিত ‘খারাপ আচরণ’-এর অভিযোগ তুলে মাদ্রাসার একটি কক্ষে জুলহাসের হাত-পা বেঁধে বেত দিয়ে পেটানো হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার তিন শিক্ষক নাজিমা তালিম, সাকিব হোসেন ও ওসমান হোসেন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তার চাচা জামাল সরদারকে খবর দেওয়া হয়। পরে তিনি মাদ্রাসা থেকে জুলহাসকে বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনার সাত দিন পর মঙ্গলবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আলী হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কবির হোসেন খান এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত তিন শিক্ষককে ওই বৈঠকে উপস্থিত করা হয়নি।
সালিশে শিশুটির চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ভুক্তভোগী পরিবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
শিশুটির চাচা জামাল সরদার বলেন, “আমার ভাতিজার ওপর নির্যাতনের বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শুধু ওষুধের খরচ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর চাপে আমরা সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি।”
সালিশকারীদের একজন এবং উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আলী হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থী খারাপ কাজ করায় তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার পর পরিচালনা কমিটির সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় শিশু অধিকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
Leave a Reply