
বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই তরুণী। শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নে আত্মহত্যার চেষ্টার এই ঘটনা ঘটে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা ভেঙে তরুণীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তরুণীর সঙ্গে একই এলাকার নাইম (২৫) নামের এক তরুণের প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নাইম স্থানীয় শফিকুল ইসলামের ছেলে। পেশায় প্রাইভেট কারের চালক। মেয়ের পরিবার তাঁর কাছে বিয়ে দিতে রাজি থাকলেও ছেলের পরিবার রাজি না হওয়ায় এক মাস আগে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয় তরুণীকে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পরও নাইম তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ১০ মে স্বামীর বাড়ি থেকে তাঁকে নিয়ে আসেন। এতে তাঁর বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর কয়েক দফায় তাঁকে ধর্ষণ করেন নাইম। তবে এখন আর তাঁকে বিয়ে করতে রাজি নন নাইম।
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তরুণীর পরিবার জানায়, সালিসে তাঁরা বিয়ের দাবি জানালেও ছেলেপক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। প্রথমে ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় সমঝোতার আলোচনা হয়।
বিয়ের পরিবর্তে টাকার মীমাংসার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে তরুণী বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, অচেতন অবস্থায় ওই তরিণীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
সালিস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল হক টিটু, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আওলাদ হোসেন মোল্লা এবং বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আওলাদ হোসেন মোল্লা বলেন, ‘উভয় পক্ষের অনুরোধে সালিসে গিয়েছিলাম। আমরা সবাই বিয়ের পক্ষে মত দিয়েছিলাম। তবে ছেলেপক্ষ টাকা দিয়ে মীমাংসার কথা বলছিল। সালিস চলাকালেই মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’
তরুণীর মা বলেন, ‘বিয়ের কথা বলে আমার মেয়ের সংসার ভেঙেছে। কয়েকবার ধর্ষণ করেছে। এখন বিয়ে করতে চায় না। সালিসে টাকার বিনিময়ে মীমাংসার কথা ওঠায় অপমান সইতে না পেরে আমার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।’
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুন বলেন, ঘটনাটি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply