
দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনকালীন সিদ্ধান্ত, নথি, দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে মামলার তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিছু তথ্য পেতে বিলম্ব হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ফের চিঠি দিয়েছে দুদক।
দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। সরকারি গেজেটেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, ওই জমি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের কাজে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই উদ্দেশ্য থেকে সরে গিয়ে জমিটি সরকারি কর্মচারীদের আবাসন নির্মাণের জন্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পুনর্বাসনের জন্য নির্ধারিত জমিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ না করে সরকারি কর্মকর্তাদের ৯৯ বছরের লিজের ভিত্তিতে আবাসন সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সরকারি গেজেটের শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ার পাশাপাশি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ন্যায্য পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অনিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দুদকের অভিযোগ।
এ সব অভিযোগের অনুসন্ধান শেষে গত বছর ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।
এ দিকে একই দিনে দুদক কার্যালয়ে হাজির হন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক। মেট্রোরেল প্রকল্পে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্ত করা হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের মামলায় প্রয়োজনীয় সব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শেষে সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নিরূপণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply