ইউক্রেনজুড়ে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। দিনিপ্রো শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন। আর জাপোরিঝিয়ায় যাত্রীবাহী মিনিবাসে ড্রোন হামলা চালানো হয়। সুমি অঞ্চলসহ আরও কয়েকটি এলাকায় হতাহতের খবর জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
নতুন এই হামলার পর ইউরোপের প্রতি আবারও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রাশিয়ার হামলায় আটটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে, যা দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর অব্যাহত চাপেরই আরেকটি উদাহরণ।
অন্যদিকে যুদ্ধের গতি বদলে দেয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেনের দীর্ঘ-পাল্লার ড্রোন অভিযান। গত কয়েক সপ্তাহে রাশিয়ার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। এতে রাশিয়া ও অধিকৃত ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার অগ্রগতি ধীর হয়ে যাওয়ার পেছনেও এসব হামলার প্রভাব দেখছেন বিশ্লেষকরা।
তবে পরিস্থিতিকে ‘সাময়িক বাধা’ হিসেবেই দেখছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করলেও যুদ্ধ থামাতে কোনো ধরনের ছাড়ের ইঙ্গিত দেননি তিনি। ক্রেমলিনও বলছে, রুশ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং শেষ পর্যন্ত নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে তারা আত্মবিশ্বাসী। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও জনমনে চাপ বাড়ছে।
Leave a Reply