
পাবনা প্রতিনিধি।। পাবনার বেড়া উপজেলায় রিকশাচালক ফজলুর রহমান (৫৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সাবেক স্বামীর সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে ওঠায় বর্তমান স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনার ১০ দিন পর সোমবার (৩০ মার্চ) ভোররাতে মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন—নিহতের স্ত্রী মোছা. জোছনা খাতুন (৪৪), তার প্রাক্তন স্বামী ও প্রধান অভিযুক্ত মো. মানিক (৪৭) এবং সহযোগী মো. খোকন প্রামাণিক (৪২)।
পুলিশ জানায়, গত ২০ মার্চ বেড়া পৌরসভার বড়শিলা গ্রামের একটি ধানখেত থেকে ফজলুর রহমানের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি হাতিগাড়া ক্যানেল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং পেশায় রিকশাচালক ছিলেন। ঘটনার সময় তার ব্যবহৃত রিকশাটিও অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে শুরুতে হত্যাকাণ্ডের কোনো সুস্পষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান, বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার এবং তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক লালবুর রহমান পিপিএম-এর নেতৃত্বে পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। টানা ১০ দিনের নিবিড় অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান জানান, জোছনা খাতুনের সঙ্গে তার প্রাক্তন স্বামী মানিকের দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে ফজলুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে মানিক ও তার সহযোগী খোকন প্রামাণিক ফজলুর রহমানকে কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে জোছনা খাতুনের সহযোগিতায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে লাশ ধানখেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
বেড়া মডেল থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
Leave a Reply