1. admin@bangladeshkontho.com : admin :
  2. gaziarifurrahaman46@gmail.com : Gazi Arif : Gazi Arif
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সারাদেশে জেলা-উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ পর্যায়ে প্রতিনিধি আবশ্যক।  যোগাযোগ :01719-480910
সংবাদ শিরোনাম :
নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হলেন মিরাজ হাসান প্রিন্স রাষ্ট্রীয় শোকের দিন বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে উড়েনি জাতীয় পতাকা কিছুটা বেড়েছে ফার্মের মুরগির দাম জুলাই গণহত্যার বিচার দাবিতে রংপুরে কফিন মিছিল বন্যায় মানুষ কষ্ট করছে আর মন্ত্রীরা বিদেশ ভ্রমণ করছেন: হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ, বললেন—ফিজিকস পরীক্ষা আবারও নেওয়া হবে সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ বন্যা-পাহাড় ধস: সাত জেলায় প্রাণহানি ৫৪, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে পাম্পে তারা, ফিরতে হলো খালি হাতে

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫৭ ০ বার সংবাদটি পরেছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি // জ্বালানি তেলের সংকটে ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য দেখা গেলো গাইবান্ধায়। মোটরসাইকেল চালানোর মতো তেল না থাকায় মোটরসাইকেলের ট্যাংকি খুলে নিয়ে ফিলিং স্টেশনে হাজির হয়েছেন দুই ব্যক্তি—আবদুল মজিদ সরকার ও গাউসুল আজম। তবে শেষ পর্যন্ত খালি ট্যাংকি নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের।

মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা শহরের আর রহমান ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ৬০ বছর বয়সী আবদুল মজিদ সরকার হাতে মোটরসাইকেলের ট্যাংকি নিয়ে তেল নিতে এসেছেন। তিনি সদর উপজেলার তালুকজামিরা গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি)। আবদুল মজিদ জানান, সকালে ট্যাংকি খুলে পাম্পে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পেট্রোল পাননি। বাধ্য হয়ে খালি ট্যাংকি নিয়েই ফিরে যেতে হয়েছে।

২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লোকজন আবদুল মজিদ সরকারকে নানা প্রশ্ন করছেন। উত্তরে তিনি বলছেন, ‘আর্শ্চয কথা, তেল নিতে তো গাড়ি আনতে হবে। কিন্তু আমার গাড়ি স্টার্ট করার মতো তেল নেই। ট্যাংকি খুলে নিয়ে আসা ছাড়া আমার আরও কোনও উপায় ছিল না।’

আবদুল মজিদ বলেন, ‘গতকাল সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত খালি ট্যাংকি নিয়ে ওই ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করেছি। পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও আমার ভাগ্যে তেল জোটেনি। পরে খালি ট্যাংকি নিয়ে ফিরেছি।’

একই চিত্র দেখা যায় গাউসুল আজমের ক্ষেত্রেও। সদর উপজেলার মালিবাড়ী এলাকার এই বাসিন্দা গত কয়েকদিন ধরে মোটরসাইকেলে তেল না থাকায় নিরুপায় হয়ে ট্যাংকি খুলে পাম্পে যান। কিন্তু নিয়মের কারণে তাকেও তেল দেওয়া হয়নি।

এদিকে হাতে ট্যাংকি নিয়ে পাম্পে আসার ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। উপস্থিত অনেকে জানান, এমন ঘটনা আগে শুধু শুনেছেন, এবার সরাসরি দেখলেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, মোটরসাইকেল ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া খোলা ট্যাংকিতে তেল সরবরাহের সুযোগ নেই। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে সংকট থাকায় পাম্পগুলোতে পেট্রোলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি তেল সংগ্রহে নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে মানতেই হবে। মোটরসাইকেলসহ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হবে—এ নিয়মের কোনও ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।

তেল সংকটের এই বাস্তবতা এখন গাইবান্ধায় ভোগান্তির নতুন চিত্র হয়ে উঠেছে—যেখানে মানুষ বাধ্য হয়ে ট্যাংকি খুলে পাম্পে যাওয়ার মতো চরম পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

জ্বালানি তেলের পাচার ঠেকাতে গাইবান্ধার সাত উপজেলার ২২টি ফিলিং স্টেশনে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ সম্পর্কে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, সাতটি উপজেলায় ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পাচার রোধে প্রতিটি পাম্পে একজন করে সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা পাম্পে তেলের মজুত, সরবরাহব্যবস্থা ও বিক্রয় কার্যক্রমে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।’

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ