রোববার (১৭ মে) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ভবতোষ মৃধা স্থানীয় গিলাবাড়ি বাজারের ‘অনূষ্কা ফার্মেসি’র স্বত্বাধিকারী ও এলাকায় সুপরিচিত ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত ঘরের বেড়ার নিচের মাটি সরিয়ে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরে লোক ঢোকার শব্দ পেয়ে ভবতোষ মৃধা জেগে ওঠেন এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকার শুনে স্ত্রী স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা তাকেও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।
পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় দম্পতিকে উদ্ধার করে প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে জায়গীরমহল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর ৫টার দিকে ভবতোষ মৃধার মৃত্যু হয়। তার স্ত্রী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত ভবতোষের স্ত্রী বলেন, ‘দুই-তিন দিন আগেও চোরেরা আমাদের বাড়িতে এসেছিল। গতরাতেও ঘরে লোক ঢুকেছে বুঝতে পারি, কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার স্বামীকে কোপাতে শুরু করে। আমাদের চোখের সামনে ওনাকে মেরে ফেলেছে। আমি এই খুনিদের ফাঁসি চাই।’
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুরি বা ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো পূর্ববিরোধ বা শত্রুতা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply