২. দিনের বেলা জানালা বন্ধ, রাতে খোলা
আমাদের অনেকেরই ধারণা, সারাদিন জানালা খোলা রাখলে ঘর ঠান্ডা থাকে। কিন্তু গরমের দিনে ঘটে উল্টো। সকাল ১০টার পর থেকে রোদের তেজ বাড়ার সাথে সাথে বাইরের বাতাসও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাই দুপুরের তপ্ত বাতাস যেন ঘরে ঢুকতে না পারে, সেজন্য দুপুরের দিকে জানালা ও ভারী পর্দা বন্ধ রাখুন। আবার সূর্য ডোবার পর যখন বাইরের আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা হয়, তখন ঘরের সব জানালা খুলে দিন, যাতে ভেতরের জমে থাকা গরম বাতাস (Cross Ventilation) সহজে বেরিয়ে যেতে পারে।
৩. এক্সহস্ট ফ্যান (Exhaust Fan) ও সিলিং ফ্যানের সঠিক ব্যবহার
রান্নাঘর বা বাথরুমের এক্সহস্ট ফ্যান শুধু ধোঁয়া বা দুর্গন্ধই দূর করে না, ঘরের ভেতরের বন্দি গরম বাতাস টেনে বাইরে বের করার ক্ষেত্রেও দারুণ কার্যকরী। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে এক্সহস্ট ফ্যানটি চালু করে দিলে ঘরের ভেতরের ভ্যাপসা গরম দ্রুত কমে যায়। এছাড়া খেয়াল রাখুন আপনার সিলিং ফ্যানটি যেন ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে (Counter-Clockwise) ঘোরে, যা গরম বাতাসকে ওপরের দিকে টেনে নিয়ে নিচে ঠান্ডা বাতাস ছড়িয়ে দেয়।
৪. ইনক্যান্ডিসেন্ট বাল্ব বিদায় করুন
আপনার ঘরে কি এখনো পুরোনো আমলের হলুদ আলো ছড়ানো গোল বাল্ব (Incandescent Bulb) জ্বলছে? উত্তর হ্যাঁ হলে, আজই সেগুলো বদলে এলইডি (LED) বাল্ব লাগান। এই পুরোনো বাল্বগুলো আলোর চেয়ে বেশি তাপ উৎপন্ন করে, যা ঘরের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে এলইডি বাল্ব ঘরকে গরম না করেই পর্যাপ্ত আলো দেয় এবং বিদ্যুৎ বিলও বাঁচায়।
৫. ঘরের মেঝেতে পানির ব্যবহার ও ইনডোর প্ল্যান্টস
বিকেলের দিকে ঘরের মেঝে ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে মুছে নিতে পারেন। পানির বাষ্পীভবনের কারণে ঘরের তাপমাত্রা অনেকটাই কমে আসে। এছাড়া ঘরে ইনডোর প্ল্যান্টস বা গাছ (যেমন- স্নেক প্ল্যান্ট, মানি প্ল্যান্ট বা অ্যালোভেরা) রাখতে পারেন। গাছ প্রস্বেদন (Transpiration) প্রক্রিয়ায় বাতাস থেকে অতিরিক্ত তাপ শুষে নেয় এবং ঘরের আর্দ্রতা বজায় রেখে প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর ঠান্ডা রাখে।
যান্ত্রিক প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে এই ঘরোয়া ও প্রাকৃতিক উপায়গুলো মেনে চললে তীব্র গরমেও আপনার ঘর থাকবে স্বস্তিদায়ক, আপনি পেতে পারেন প্রাকিৃতিক ঠান্ডা অনুভুতি, সেই সাথে বাড়তি খরচেও মিলবে কিছুটা স্বস্তি।
Leave a Reply