
বিশেষ প্রতিবেদন ।। দীর্ঘ ১০ সপ্তাহ পর আজ শেষ হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বিশেষ শনিবারের কার্যদিবস। পবিত্র রমজান মাসের ছুটির কারণে তৈরি হওয়া শিখন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) এই অতিরিক্ত ক্লাসের নির্দেশনা জারি করেছিল। তবে আজ এই নির্দেশনার শেষ দিন হলেও, গত আড়াই মাস ধরে সারাদেশের সাধারণ শিক্ষকদের মাঝে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও অসন্তোষের রেশ এখনো কাটেনি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষকদের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিক্রিয়া এই সিদ্ধান্তের পেছনের যৌক্তিকতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, মাঠপর্যায়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একজন শিক্ষকের দেওয়া একক পরামর্শের ভিত্তিতেই এই শনিবারের ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কোনো রকম পূর্ব আলোচনা বা সাধারণ শিক্ষকদের মতামতের তোয়াক্কা না করে এমন একটি সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ায় শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন শিক্ষকেরা। তাদের মতে, একটি বিশাল প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির খেয়ালখুশির ওপর ভিত্তি করে হওয়া অনুচিত।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষকেরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
চরম বৈষম্য: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি বহাল থাকলেও, শুধুমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর এই নিয়ম চাপানো হয়েছে। শিক্ষকেরা একে ‘বিমাতাসুলভ আচরণ’ হিসেবে দেখছেন।
মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি: তীব্র গরম এবং সপ্তাহের ছয় দিন টানা ক্লাসের কারণে কোমলমতি শিশু এবং শিক্ষক—উভয়েই চরম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির শিকার হয়েছেন। মাত্র এক দিনের ছুটিতে এই ক্লান্তি দূর করা অসম্ভব ছিল।
পারিবারিক ও সামাজিক সংকট: শিক্ষকদের একটি বড় অংশ নারী। সপ্তাহে মাত্র এক দিন ছুটি পাওয়ায় তারা পারিবারিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত কাজ গুছিয়ে উঠতে হিমশিম খেয়েছেন।
কর্মস্পৃহা হ্রাস: জোরপূর্বক বাড়তি দায়িত্ব চাপানোর ফলে শিক্ষকদের স্বাভাবিক কর্মস্পৃহা এবং পাঠদানের স্বতঃস্ফূর্ততা ব্যাহত হয়েছে।
আজ ২৭ জুন, দশম শনিবারের ক্লাস শেষ হওয়ার মাধ্যমে অবশেষে এই বিতর্কিত নির্দেশনার মেয়াদ শেষ হলো। আগামী সপ্তাহ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পুনরায় তাদের নিয়মিত দুই দিনের (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি ফিরে পাবেন।
সাধারণ শিক্ষকদের দাবি, ভবিষ্যতে যেকোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যেন মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি এবং শিক্ষকদের অধিকারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।
Leave a Reply