
ভোলা প্রতিনিধি।। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে বালুবাহী ট্রলির চাপায় লিয়া বেগম (১৫) নামে এক মাদরাসাছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা। নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ কাঁধে নিয়ে সড়কে নেমে প্রায় আধাঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সহপাঠীরা। এতে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘ যানজটের দেখা দেয়।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়া বেগম উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামের মেয়ে। তিনি চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে মাদরাসার উদ্দেশে রওনা হন লিয়া। পথিমধ্যে একটি দ্রুতগতির বালুবাহী ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অতিরিক্ত গতির কারণেই চালক ট্রলিটির নিয়ন্ত্রণ হারান।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সহপাঠী, শিক্ষক, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা লিয়ার মরদেহ কাঁধে নিয়ে সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং প্রায় ৩০ মিনিট সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বালুবাহী ট্রলির বেপরোয়া চলাচল বন্ধের দাবি জানান তারা।
অবরোধের কারণে চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং অবরোধ তুলে দেয়।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহমেদ বলেন, ছাত্রী নিহতের ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বালুবাহী ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারী বালুবাহী ট্রলির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তারা অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলির নিয়ন্ত্রণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply