
নিউজ ডেস্ক।। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নের ১৭ নম্বর মকিমাবাদ নজিমুন্নেসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের জানালার ওপর স্থাপিত একটি লোহার গ্রিল খুলে পড়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী আরাফাত বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বিদ্যালয়ের ভবনের জানালার উপরের ফাঁকা অংশে স্থাপিত লোহার গ্রিলটি একটি শিশুর স্পর্শেই খুলে পড়ে তার শরীরে আঘাত করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী।
আহতের মা ফারজানা আক্তার বলেন, ৮ থেকে ১০ বছরের একটি শিশু জানালার গ্রিল স্পর্শ করতেই যদি সেটি খুলে পড়ে যায়, তাহলে ভবনের বাকি অংশ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, সেটি সহজেই বোঝা যায়। আমার ছেলে স্কুলে গিয়ে আহত হয়েছে। অথচ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসা, খোঁজখবর বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন,ঘটনার তিন দিন পর প্রধান শিক্ষক শুধু ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু দুর্ঘটনার পরপরই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি কেন জানানো হয়নি, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. ফেরদৌসি বেগম ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদকর্মীরা বিষয়টি জানতে পারলে সেটি আর ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, শুধু ভবনের নিরাপত্তাই নয়, বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবারের মানও নিম্নমানের। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঠিকভাবে খাবার বিতরণ করা হয় না বলেও তারা দাবি করেছেন। তাদের মতে, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয় ভবনের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান, নির্মাণ তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবনের প্রতিটি অংশ কারিগরি পরীক্ষা করে শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. ফেরদৌসি বেগম প্রথমে ঘটনাটি অস্বীকার করেন। পরে সংবাদকর্মীরা ঘটনার প্রমাণ উপস্থাপন করলে তিনি বলেন,বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করছিল। তখন আরাফাত জানালার ওপরের গ্রিল ধরলে সেটি খুলে তার গায়ে পড়ে। তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি কেন জানানো হয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,ঘটনাটি ছোট মনে হওয়ায় জানানো প্রয়োজন মনে করিনি।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) রুহুল আমিন বলেন,এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জানালার গ্রিল খুলে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি ধামাচাপা না দিয়ে ভবনের নির্মাণমান, দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
Leave a Reply