
স্টাফ রিপোটার।। পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সজল কুমার দেউরী (৩৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ, স্ত্রীর কথিত পরকীয়া এবং ঘটনার আগে ভিডিও কলে স্ত্রীর উসকানিমূলক কথাবার্তার জেরেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। ঘটনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদারের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
নিহত সজল কুমার দেউরী পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাটাপিঠানিয়া গ্রামের (৯ নম্বর ওয়ার্ড) বাসিন্দা স্বপন কুমার দেউরীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার একটি বেসরকারি গার্মেন্টসে কাটিং মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের ছোট ভাই তুহিন দেউরী জানান, প্রায় ১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার রঞ্জিতা রানী হালদারের সঙ্গে সজলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিন বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকতেন, আর সজল চাকরির কারণে ঢাকায় অবস্থান করতেন।
তার অভিযোগ, গ্রামের প্রতিবেশী শোভন বেপারীর সঙ্গে রঞ্জিতা রানীর কথিত পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসারে অশান্তি চলছিল। বিষয়টি একাধিকবার পারিবারিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
তুহিন দেউরীর দাবি, ঘটনার দিন আত্মহত্যার কথা বললে ভিডিও কলে তার স্ত্রী বলেন, “সাহস থাকলে তুই মরে দেখা, আমি সরাসরি লাইভে দেখতে চাই। তুই মরলেই আমি বাঁচি।” পরিবারের সদস্যরা এসব কথোপকথন শুনেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ত্রীর অতিরিক্ত সক্রিয়তা নিয়েও দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোজ ঢালী বলেন, এলাকায় রঞ্জিতা রানী হালদার ও শোভন বেপারীর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জনশ্রুতি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার পর অভিযুক্ত শোভন বেপারী ও রঞ্জিতা রানী এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
অভিযুক্ত শোভন বেপারী অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রঞ্জিতা রানীর সঙ্গে আমার কোনো পরকীয়া সম্পর্ক নেই। আমি তাকে সব সময় ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করতাম।” পরে আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে নিহতের স্ত্রী রঞ্জিতা রানী হালদারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি বাড়িতে না থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্বজনদের দাবি, আত্মহত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ভিডিও কলের তথ্য ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
Leave a Reply