1. admin@bangladeshkontho.com : admin :
  2. gaziarifurrahaman46@gmail.com : Gazi Arif : Gazi Arif
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
নোটিশ :
সারাদেশে জেলা-উপজেলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ পর্যায়ে প্রতিনিধি আবশ্যক।  যোগাযোগ :01719-480910

বাবার শেষ সম্বল রক্ষায় লড়ছেন তানভীর, প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে জমি দখল ও হয়রানির অভিযোগ

  • আপডেট সময় : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ২২ ০ বার সংবাদটি পরেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল।। বরিশাল নগরীর কালীবাড়ী রোড এলাকায় বাবার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল রক্ষায় আইনি ও সামাজিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ তানভীর আল কাদরী। পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী মো. আলী আজগরের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক রাস্তা দাবি, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে বর্তমানে বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই নজরুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী তানভীর আল কাদরী বলেন, “এটা আমার বাবার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল। আমি অত্যন্ত সাধারণ একজন মানুষ। প্রতিবেশী আলী আজগর জোরপূর্বক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে রাস্তা নিতে চাচ্ছে। অথচ আমার বাড়ির পর আর কোনো চলাচলের জায়গা নেই। তাদের সম্পত্তি ও আমাদের সম্পত্তির মাঝেও সীমানা প্রাচীর রয়েছে। এরপরও সে রাস্তা দাবি করছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জানতে চাইলে সে বলে, ওপাশে হাওয়া খেতে যাবে। কিন্তু আমার জমির ভেতর দিয়ে তাকে কোনো রাস্তা দেওয়া হবে না। জমির সব বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেন শাহ আলম বলেন, “আলী আজগর সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তানভীরের জায়গার ওপর দিয়ে রাস্তা দাবি করছে।”

অধ্যাপক শফিউল্লাহর স্ত্রী মুকুল বেগম বলেন, “তানভীর তার শেষ সম্বলের ওপর ছোট একটি ঘর নির্মাণ করছে। আমরা প্রতিবেশীরা তাকে সহযোগিতা করছি। কিন্তু আলী আজগর জোরপূর্বক তার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নিতে চাইছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।”

আরেক প্রতিবেশী রেজাউল রহমান সিরাজের দাবি, “আলী আজগর দীর্ঘদিন ধরে তানভীরদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। যে রাস্তা দিয়ে সে চলাচল করে, সেটির মালিকও তানভীর।”

এদিকে আলী আজগরের বড় ভাই মৃত মোহাম্মদ টগরের মেয়ে টিনা অভিযোগ করে বলেন, “আলী আজগর আমাদের জমিও ঠকিয়ে নিয়েছে। এখন তানভীরের জমিও আত্মসাতের চেষ্টা করছে। তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

একই অভিযোগ করেন আলী আজগরের ছোট ভাই মনির হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। তিনি বলেন, “তিনি আমাদের জমিও অবৈধভাবে দখল করেছেন। এখন তানভীরের সম্পত্তির দিকেও নজর দিয়েছেন।”

বিরোধ মীমাংসায় স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে সালিশদার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মসজিদের মোতাওয়াল্লি মো. শফিউর রহমান জামাল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সালিশি সিদ্ধান্ত অমান্য করে আলী আজগর পরবর্তীতে আদালতে মামলা করেন এবং শফিউর রহমান জামালকে না জানিয়েই সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন।

এ বিষয়ে শফিউর রহমান জামাল বলেন, “আমাকে না জানিয়ে সাক্ষী করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়। আমি এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেব। আমরা জানি, এই জমির বৈধ মালিক তানভীর এবং তার কাছে সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতিতে গঠিত সালিশ বোর্ড সরেজমিন তদন্ত ও সার্ভেয়ার কর্তৃক প্রস্তুত নকশার ভিত্তিতে বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা ও চলাচলের রাস্তা নির্ধারণ করে রোয়েদাদ প্রদান করে।

সালিশে নিয়োগপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার মো. আরিফুর রহমান সোহাগ সরেজমিন পরিদর্শন ও খতিয়ান যাচাই শেষে একটি কলমি নকশা প্রস্তুত করেন। ওই নকশা অনুযায়ী প্রথম পক্ষকে ০৩৯০ সহস্রাংশ, দ্বিতীয় পক্ষকে ০৪৭৮ সহস্রাংশ এবং তৃতীয় পক্ষকে ১১৬৬ সহস্রাংশ জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

একইসঙ্গে দ্বিতীয় পক্ষের অংশ থেকে ২৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি প্রস্থের একটি রাস্তা নির্ধারণ করা হয়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মসহ সংশ্লিষ্ট সবাই ব্যবহার করতে পারবেন বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোয়েদাদে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূর্বের সব জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গণ্য হবে। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রস্তুতকৃত সার্ভেয়ার নকশাকে সালিশি রোয়েদাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত অমান্য করে আলী আজগর পরবর্তীতে ১৪৪ ধারায় এবং পরে ১৮৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ